মমতার গড়ে জোরালো গেরুয়া থাবা বসাচ্ছে আরএসএস! ‘আত্মনির্ভর বাংলা’ আসলে কী

Kolkata : সুন্দরবনের মাতলা নদীর ধারে বহু ঘরবাড়িতে একটা সময় চালের মাথায় কিম্বা কোনও খুঁটিতে বামপন্থীদের লাল পতাকা দাপটে উড়েছে। এরপর সময় পেরিয়েছে । মাতলা দিয়ে ,বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। বামেদের লালের জায়গায় ঘাসফুলের পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সুন্দরবনের এই সমস্ত এলাকায় এবার জনতার দরবারের চোরা স্রোতে উড়ছে গেরুয়া! মমতার বাংলায় কার্যত জোরালো থাবা বসাতে শুরু করে দিয়েছে আরএসএস। আর লকডাউন তার অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
Strict lockdown in Bengal from Thursday 5 pm as state reports ...
লকডাউন, কর্মহীনতা এবং গেরুয়া লকডাউনের জেরে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে রোদ , জল , ঝড় সহ্য করে ঘরে ফিরতে হয়েছে। আশা ছিল সংসার নিয়ে ঘরে ফিরলে অনাহার থেকে বাঁচা যাবে। তবে পশ্চিমবঙ্গে ফেরা বহু পরিযায়ী শ্রমিকেরই কর্মসংস্থান সেভাবে হয়নি। আর সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে এবার আরএসএস দীন , দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে। আর তাতেই রাজনীতি সচেতন বাংলায় পট পরিবর্তনের কিছুটা আভাস মিলছে।

কী ঘটে যাচ্ছে বাংলার গ্রামে গ্রামে? দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামগুলি সহ একাধিক গ্রামে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকের সদস্যরা একাধিক প্রকল্প হাাতে নিয়েছেন। আর তার কাজের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে কর্মীর। সেই কর্মীর যোগান আসছে রাজ্যে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে।
Bengal is not Uttar Pradesh': Mamata Banerjee lashes out at Dilip ...
কাজের খোঁজ ও সমাজ সেবা ভারতী কেউ সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলার এসেছেন, কেউবা তামিলাড়ু। ভিন রাজ্যে লকডাউনের জেরে রোজগার বন্ধ হতেই ঘরে ফিরেও বহু পরিযায়ী শ্রমিক দেখছেন একই পরিস্থিতির শিকার তাঁরা ঘরেও। এমন অবস্থায় সমাজ সেবা ভারতী নামের সংগঠন যা আরএসএস এর একটি অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই সংগঠন এই শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প গড়ছে। ফলে গ্রাম বাংলার বুকে এবার নিজের জমি শক্ত করতে শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া দল।

আত্মনির্ভর বাংলা’ আসলে কী?

উল্লেখ্য, ‘আত্মনির্ভর বাংলা’ ব্যানারের আওতায় আরএসএস এর এই সংগঠন ২ বছরের এক একটি প্রকল্প নিয়েছে। ১২০ টি প্রত্যন্ত ও গরীব গ্রামকে বেছে নিয়েছে তারা। সহকর ভারতী, সমাজ সেবা ভারতী, ভারচীয় মজদুর সংঘ মিলে এই গ্রামগুলিতে কাজ করছে।

কী কাজ হচ্ছে ‘আত্মনির্ভর বাংলা’র আওতায়?

উল্লেখ্য, গ্রাম গুলির সার্বিক বিকাশের জন্য এই সংগঠন কাজ করছে। আর সেই কাজে লাগানো হয়েছে গ্রামের মানুষকেও। যাতে গ্রামগুলি স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পারে তার চেষ্টা চলছে। আর এভাবেই মানুষের প্রয়োজনীয়তা বুঝে কাজের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বাংলার মাটিতে গেরুয়া পদার্পণ শুরু করে দিয়েছে আরএসএস।

Sign of hope: Bengali Muslims finally protesting Mamata Banerjee's ...

গ্রামবাসী কী পাচ্ছে? উল্লেখ্য, সংঘের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যেম দুধকে কেন্দ্র করে একটি বড় অর্থনীতি তৈরির চেষ্টা চলছে। যা দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বাড়াতে পারে। এছাড়াও মহিলাদের দ্বারা সেলাই, টিপ বানানো, প্রকৃতি বান্ধব পণ্য তৈরি, ঘরের তৈরি মিষ্টি, পাপড়, আচার, ব্যাগ তৈরি করে তা বাইরের দুনিয়ায় বিক্রি করে গ্রামবাসীর রোজগারে সহায়তা করার চেষ্টা চলছে। আর কর্মহীনতার মধ্যে আয়ের আশার আলো দেখতেই গ্রামবাসীদের মধ্যেও এই বন্দোবস্ত ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *